দশম শ্রেণী ভৌত বিজ্ঞান আলো অধ্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উওর
WBBSE Class 10 Physical Science Light important questions and answersআজ আমরা WBBSE দশম শ্রেণীর ভৌত বিজ্ঞানের আলো (পঞ্চম অধ্যায়) গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উওর আলোচনা করব। আশা করি মাধ্যমিকের সকল ছাত্র ছাত্রীদের খুবই কাজে আসবে।এবার পশ্চিমবঙ্গ দশম শ্রেণীর ভৌত বিজ্ঞান পরীক্ষায় এই topic টি পরীক্ষার জন্য খুব ইম্পর্টেন্ট ।
Today we will discuss WBBSE class 10 physical science important questions and answers of the 5th chapter Light. I hope all the secondary students will be very useful. This time this topic is very important for the WBBSE 10th class physics exam.
✪ আলোর প্রতিফলন কাকে বলে ? প্রতিফলনের সূত্র গুলি লেখ।
➤ আলোর প্রতিফলনঃ আলোকরশ্মি একটি সমসত্ব ও স্বচ্ছ মাধ্যমের মধ্য দিয়ে গিয়ে অন্য একটি মাধ্যমের আপতিত হলে, ওই দ্বিতীয় মাধ্যমে থেকে আপতিত আলোকরশ্মির কিছু অংশ দিক পরিবর্তন করে আবার প্রথম মাধ্যমে ফিরে আসে এই ঘটনাকে আলোর প্রতিফলন বলে।◼ প্রতিফলনের সূত্রঃ ❶ আপতিত রশ্মি প্রতিফলিত রশ্মি এবং আপতন বন্দুতে প্রতিফলকের উপর অঙ্কিত অভিলম্ব একই সমতলে থাকে।❷ আপতন কোণ ও প্রতিফলন কোণ সর্বদা সমান হয়।
✪ গোলীয় দর্পণ কাকে বলে? গোলীয় দর্পণ কয় প্রকার ও কি কি ? ➤ গোলীয় দর্পণঃ কোনো প্রতিফলক তল যদি কোনো গোলকের অংশ হয় তবে তাকে গোলীয় দর্পণ বলে।◼ গোলীয় দর্পণ দুই প্রকারের হয়। যথা. ১) অবতল দর্পণ (Concave mirror) ও ২) উত্তল দর্পণ (Convex mirror)।
✪ অবতল দর্পণ ও উত্তল দর্পণ কাকে বলে ?➤ অবতল দর্পণ (Concave Mirror): যে গোলীয় দর্পণের ভেতরের তলটি প্রতিফলক হিসেবে কাজ করে তাকে অবতল দর্পণ বলে।
◼ উত্তল দর্পণ (Convex Mirror): যে গোলীয় দর্পণের বাইরের তলটি প্রতিফলক হিসেবে কাজ করে তাকে উত্তল দর্পণ বলে।
✪ গোলীয় দর্পণ সংক্রান্ত নিম্নলিখিত বিষয়গুলি সংজ্ঞা দাও --- ১) মেরু ২) বক্রতা কেন্দ্র ৩) বক্রতা ব্যাসার্ধ ৪) প্রধান অক্ষ ৫) উন্মেষ ৬) কৌণিক উন্মেষ ➤১) মধ্যবিন্দু বা মেরু (Pole): কোনো গোলীয় দর্পণের প্রতিফলক তল এর মধ্যবিন্দু কে ওই গোলীয় দর্পণের মধ্যবিন্দু বা মেরু বলে।২) বক্রতা কেন্দ্র ( Centre of Curvature): কোনো গোলীয় দর্পণ যে গোলকের অংশ সেই গোলকের কেন্দ্রকে ওই গোলীয় দর্পণের বক্রতা কেন্দ্র বলে।৩) বক্রতা ব্যাসার্ধ (Radius of Curvature): কোনো গোলীয় দর্পণ যে গোলকের অংশ সেই গোলকের ব্যাসার্ধকে ওই গোলীয় দর্পণের বক্রতা ব্যাসার্ধ বলে।8) প্রধান অক্ষ (Principal axis): কোনো গোলীয় দর্পণের মেরু এবং বক্রতা কেন্দ্রগামী সরলরেখাকে ওই গোলীয় দর্পণের প্রধান অক্ষ বলে।৫) উন্মেষ (Aperture): কোনো গোলীয় দর্পণের প্রান্তবিন্দু দুটির দূরত্বকে ওই দর্পণের উন্মেষ বলে।৬) কৌণিক উন্মেষ (Angular aperture): কোনো গোলীয় দর্পণের দুই প্রান্ত বিন্দু সংযোজক সরলরেখা দ্বারা বক্রতা কেন্দ্রে উৎপন্ন কোনটিকে কৌণিক উন্মেষ বলে।
✪ উপাক্ষীয় ও প্রান্তিক রশ্মি কাকে বলে ?➤ উপাক্ষীয় রশ্মি (Paraxial rays): যে সকল রশ্মি গোলীয় দর্পণের প্রধান অক্ষের সঙ্গে ক্ষুদ্র কোণে এবং দর্পণের মেরুর নিকটবর্তী অঞ্চলে আপতিত হয় তাদের উপাক্ষীয় রশ্মি বলা হয়।
◼ প্রান্তিক বা অক্ষাপসারী রশ্মি (Non-paraxial rays): যে সকল রশ্মি গোলীয় দর্পণের প্রধান অক্ষের সঙ্গে বৃহৎ কোণে এবং দর্পণের মেরু থেকে দূরে অর্থাৎ দর্পণের প্রান্তে আপতিত হয় তাদের প্রান্তিক বা অক্ষাপসারী রশ্মি বলে।
✪ গোলীয় দর্পণের মুখ্য ফোকাস কাকে বলে ?⇒ গোলীয় দর্পণের মুখ্য ফোকাসঃ সমান্তরাল আলোক রশ্মিগুচ্ছ প্রধান অক্ষের সমান্তরালে কোনো গোলীয় দর্পণে আপতিত হলে প্রতিফলনের প্ প্রধান অক্ষের উপর অবস্থিত যে নির্দিষ্ট বিন্দুতে মিলিত হয় (অবতল দর্পণের ক্ষেত্রে) অথবা যে নির্দিষ্ট বিন্দু থেকে অপসৃত হচ্ছে বলে মনে হয় (উত্তল দর্পণের ক্ষেত্রে) তাকে ওই গোলীয় দর্পণের মুখ্য ফোকাস বলে।
✪ অবতল দর্পণের মুখ্য ফোকাস ও ফোকাস দূরত্বের চিত্রসহ সংজ্ঞা লেখো।⇒ অবতল দর্পণের মুখ্য ফোকাসঃ সমান্তরাল আলোক রশ্মিগুচ্ছ প্রধান অক্ষের সমান্তরালে এসে কোনো অবতল দর্পণে আপতিত হলে প্রতিফলনের পর প্রধান অক্ষের উপর যে নির্দিষ্ট বিন্দুতে মিলিত হয় তাকে ওই অবতল দর্পণের মুখ্য ফোকাস বলে।
◼ ফোকাস দূরত্বঃ দর্পণের মেরু বা মধ্যবিন্দু থেকে মুখ্য ফোকাসের দূরত্বকে ফোকাস দূরত্ব বলা হয়।
অবতল দর্পণের মুখ্য ফোকাস
✪ উত্তল দর্পণের মুখ্য ফোকাসের চিত্রসহ সংজ্ঞা লেখো।⇒ উত্তল দর্পণের মুখ্য ফোকাসঃ সমান্তরাল আলোক রশ্মিগুচ্ছ প্রধান অক্ষের সমান্তরালে এসে কোনো উত্তল দর্পণে আপতিত হলে প্রতিফলনের পর, প্রধান অক্ষের উপর অবস্থিত যে নির্দিষ্ট বিন্দু থেকে অপসৃত হচ্ছে বলে মনে হয় তাকে ওই উত্তল দর্পণের ফোকাস বলে।
✪ কোনো গোলীয় দর্পণকে জলে নিমজ্জিত করলে ফোকাস দৈর্ঘ্যের কোনো পরিবর্তন হবে কি ? ⇒ গোলীয় দর্পণে আলোর প্রতিফলন হয় এবং আলোর প্রতিফলন সংক্রান্ত সূত্রগুলি মাধ্যমে প্রকৃতির উপর নির্ভরশীল নয়। তাই কোনো গোলীয় দর্পণকে জলে নিমজ্জিত করলে ফোকাস দৈর্ঘ্যের কোনো পরিবর্তন হবে না।
✪ অবতল দর্পণের গৌণ ফোকাস কাকে বলে?⇒ অবতল দর্পণের গৌণ ফোকাসঃ সমান্তরাল আলোক রশ্মিগুচ্ছ প্রধান অক্ষের সমান্তরালে এসে কোনো অবতল দর্পণে আপতিত হলে প্রতিফলনের পর, ফোকাস তলের ওপর যে বিন্দুতে মিলিত হয় তাকে ওই অবতল দর্পণের গৌণ ফোকাস বলে।
✪ অবতল দর্পণের ক্ষেত্রে ফোকাস দূরত্ব ও বক্রতা ব্যাসার্ধের মধ্যে সম্পর্ক নির্ণয় করো। অথবা, উপাক্ষীয় রশ্মির ক্ষেত্রে, কোনো অবতল দর্পণের জন্য প্রমাণ করো, r = 2f, (r = বক্রতা ব্যাসার্ধ , f = ফোকাস দূরত্ব)⇒ মনে করি `MOM'` একটি ক্ষুদ্র উন্মেষ যুক্ত অবতল দর্পণের যার মধ্যবিন্দু `O`, ফোকাস `F`, বক্রতা কেন্দ্র `C` ও বক্রতা ব্যাসার্ধ `OC` = `r`, ফোকাস দূরত্ব `OF` = `f`।`PQ` আলােকরশ্মি দর্পণের প্রধান অক্ষের সমান্তরালে এসে `Q` বিন্দুতে আপতিত হয়েছে এবং প্রতিফলনের পর ফোকাস `F`-এর মধ্য দিয়ে `QR` পথে গিয়েছে। `Q` ও `C` বিন্দু যোগ করা হল। `CQ` রেখাটি হল দর্পণের বক্রতা ব্যাসার্ধ এবং `Q` বিন্দুতে অভিলম্ব।
প্রতিফলনের নিয়ম অনুসারে, আপতন কোণ = প্রতিফলন কোণ।
ஃ ∠PQC = ∠CQF ------ (1)
যেহেতু `PQ` ∥ `CO` এবং `QC` ভেদক সেহেতু ∠PQC = ∠QCF (একান্তর কোণ) ------ (2)
(1) ও (2) নং সমীকরণ তুলনা করে পাই --- ∠CQF = ∠QCF
ஃ △FQC একটি সমদ্বিবাহু ত্রিভুজ এবং `FQ` = `FC`
`PQ` উপাক্ষীয় রশ্মি বলে `Q` এবং `O` বিন্দু খুব কাছাকাছি থাকবে এবং সেক্ষেত্রে `FQ` = `OF` ধরা যায়।
ஃ `OF = FC` অর্থাৎ `OF = frac{1}{2} OC` বা, `f = frac{r}{2}` বা `r = 2f`
✪ উত্তল দর্পণের ক্ষেত্রে ফোকাস দূরত্ব ও বক্রতা ব্যাসার্ধের মধ্যে সম্পর্ক নির্ণয় করো।অথবা, উপাক্ষীয় রশ্মির ক্ষেত্রে, কোনো উত্তল দর্পণের জন্য প্রমাণ করো, r = 2f, (r = বক্রতা ব্যাসার্ধ , f = ফোকাস দূরত্ব)
⇒ মনে করি `MOM'` একটি ক্ষুদ্র উন্মেষ যুক্ত উত্তল দর্পণ যার মধ্যবিন্দু `O`, ফোকাস `F`, বক্রতা কেন্দ্র `C` ও বক্রতা ব্যাসার্ধ `OC` = `r`, ফোকাস দূরত্ব `OF` = `f`।
`PQ` আলােকরশ্মি দর্পণের প্রধান অক্ষের সমান্তরালে এসে `Q` বিন্দুতে আপতিত হয়েছে এবং প্রতিফলনের পর ফোকাস `F` থেকে অপসৃত হচ্ছে বলে মনে হয় এবং `QR` পথে চলে যায়। `C` ও `Q` যােগ করা হল এবং `N` পর্যন্ত বর্ধিত করা হল। অতএব `CQN` রেখা হল দর্পণের ওপর অভিলম্ব।

উত্তল দর্পণের ক্ষেত্রে ফোকাস দূরত্ব ও বক্রতা ব্যাসার্ধের মধ্যে সম্পর্ক নির্ণয়
প্রতিফলনের নিয়ম অনুসারে, আপতন কোণ = প্রতিফলন কোণ।
ஃ ∠PQN = ∠RQN = ∠CQF (বিপ্রতীপ কোণ) ........ (1)
যেহেতু `PQ` ∥ `CO` এবং QC ভেদক সেহেতু ∠PQN = ∠FCQ (অনুরুপ কোণ) ------ (2)
(1) ও (2) নং সমীকরণ তুলনা করে পাই --- ∠CQF = ∠FQC
ஃ △FQC একটি সমদ্বিবাহু ত্রিভুজ এবং FQ = FC
PQ উপাক্ষীয় রশ্মি বলে Q এবং O বিন্দু খুব কাছাকাছি থাকবে এবং সেক্ষেত্রে FQ = OF ধরা যায়।
ஃ `OF = FC` অর্থাৎ `OF = frac{1}{2} OC` বা, `f = frac{r}{2}` বা `r = 2f`
✪ অবতল ও উত্তল দর্পণের ব্যবহার লেখো।
➤ অবতল দর্পণের ব্যবহার:
i) দন্ত চিকিৎসকদের কাজে ব্যবহৃত হয়
ii) দাড়ি কামানোর দর্পণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়
iii) মোটর গাড়ির হেডলাইটে প্রতিফলক হিসেবে ব্যবহার করা হয়
≻ উত্তল দর্পণের ব্যবহার:
i) মোটর গাড়ির ভিউফাইন্ডারে ব্যবহৃত হয়
ii) রাস্তার স্ট্রীট ল্যাম্পে আলোর প্রতিফলক রূপে ব্যবহৃত হয়
✪ তোমাকে একটি দর্পণ দেওয়া হল। স্পর্শ না করে দর্পণটি শনাক্ত করবে কিভাবে?
➤ একটি পেন্সিল বা হাতের আঙ্গুল দর্পণের খুব কাছে রাখলে ---
i) যদি বস্তুর সমান আকারের, সমশীর্ অসদ্ প্রতিবিম্ব দেখা যায় তবে বুঝতে হবে দর্পণ সমতল।
ii) যদি বস্তুর চেয়ে বড়, আকারের সমশীর্ষ ও অসদ্ প্রতিবিম্ব দেখা যায় তবে বুঝতে হবে দর্পণটি অবতল।
iii) যদি বস্তুর চেয়ে ছোট, সমশীর্ষ ও অসদ্ প্রতিবিম্ব দেখা যায় তবে বুঝতে হবে দর্পণ উত্তল।
✪ আলোর বিচ্ছুরণ কাকে বলে? স্নেলের সূত্রের সাহায্যে আলোর বিচ্ছুরণের ব্যাখ্যা দাও।
➤ আলোর বিচ্ছুরণ (Dispersion of light): সাদা আলো বা অন্য কোনো বহুবর্ণী আলো প্রিজম বা প্রিজমের মত কোনো প্রতিসারক মাধ্যমে প্রতিসৃত হলে তার উপাদান বর্ণগুলিত বিশ্লিষ্ট হয়। এই ঘটনাকে আলোর বিচ্ছুরণ বলে।
◼ স্নেলের সূত্র অনুযায়ী কোনো মাধ্যমের প্রতিসরাঙ্ক,
`mu = frac {sin i} {sin r} `
যেখানে, `i` = আপতন কোণ ও `r` = প্রতিসরণ কোণ।
এখন, নির্দিষ্ট আপতন কোণের জন্য,
`mu prop frac {1} {sin r} ` ------ (1)
আবার, উল্লিখিত মাধ্যমে আলোর বেগ `v` হলে,
`mu prop frac{1}{v} ` ------ (2)
(1) ও (2) নং সমীকরণ থেকে বলা যায়,
`sin r prop v`
অর্থাৎ প্রতিসরণ কোণ আলোকরশ্মির বেগের সমানুপাতিক ।
আমরা জানি শূন্য মাধ্যম বা বায়ু মাধ্যম ছাড়া অন্য কোনো আলোকীয় মাধ্যমে বিভিন্ন বর্ণের আলোর বেগ বিভিন্ন। তাই বিভিন্ন বর্ণের আলোকরশ্মির প্রতিসরণ কোণ বিভিন্ন হয় এবং সেগুলি পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে পড়ে । তাই সাদা আলো বা বহুবর্ণী আলোর বিচ্ছুরণ হয়।
✪ একবর্ণী ও বহুবর্ণী আলো বলতে কী বোঝায়? বিচ্ছুরক মাধ্যম কী?
➤ একবর্ণী আলোকরশ্মিঃ যে আলোকরশ্মি কেবলমাত্র একটি বর্ণ দ্বারা গঠিত তাকে একবর্ণী আলোকরশ্মি বলে।
● বহুবর্ণী আলোকরশ্মিঃ যে আলোকরশ্মি একাধিক বর্ণের আলোর সমন্বয়ে গঠিত তাকে বহুবর্ণী আলোক রশ্মি বলে।
![]() |
| অবতল দর্পণের মুখ্য ফোকাস |
`PQ` আলােকরশ্মি দর্পণের প্রধান অক্ষের সমান্তরালে এসে `Q` বিন্দুতে আপতিত হয়েছে এবং প্রতিফলনের পর ফোকাস `F`-এর মধ্য দিয়ে `QR` পথে গিয়েছে। `Q` ও `C` বিন্দু যোগ করা হল। `CQ` রেখাটি হল দর্পণের বক্রতা ব্যাসার্ধ এবং `Q` বিন্দুতে অভিলম্ব।
প্রতিফলনের নিয়ম অনুসারে, আপতন কোণ = প্রতিফলন কোণ।
ஃ ∠PQC = ∠CQF ------ (1)
যেহেতু `PQ` ∥ `CO` এবং `QC` ভেদক সেহেতু ∠PQC = ∠QCF (একান্তর কোণ) ------ (2)
(1) ও (2) নং সমীকরণ তুলনা করে পাই --- ∠CQF = ∠QCF
ஃ △FQC একটি সমদ্বিবাহু ত্রিভুজ এবং `FQ` = `FC`
`PQ` উপাক্ষীয় রশ্মি বলে `Q` এবং `O` বিন্দু খুব কাছাকাছি থাকবে এবং সেক্ষেত্রে `FQ` = `OF` ধরা যায়।
ஃ `OF = FC` অর্থাৎ `OF = frac{1}{2} OC` বা, `f = frac{r}{2}` বা `r = 2f`
`PQ` আলােকরশ্মি দর্পণের প্রধান অক্ষের সমান্তরালে এসে `Q` বিন্দুতে আপতিত হয়েছে এবং প্রতিফলনের পর ফোকাস `F` থেকে অপসৃত হচ্ছে বলে মনে হয় এবং `QR` পথে চলে যায়। `C` ও `Q` যােগ করা হল এবং `N` পর্যন্ত বর্ধিত করা হল। অতএব `CQN` রেখা হল দর্পণের ওপর অভিলম্ব।
![]() |
| উত্তল দর্পণের ক্ষেত্রে ফোকাস দূরত্ব ও বক্রতা ব্যাসার্ধের মধ্যে সম্পর্ক নির্ণয় |
প্রতিফলনের নিয়ম অনুসারে, আপতন কোণ = প্রতিফলন কোণ।
ஃ ∠PQN = ∠RQN = ∠CQF (বিপ্রতীপ কোণ) ........ (1)
যেহেতু `PQ` ∥ `CO` এবং QC ভেদক সেহেতু ∠PQN = ∠FCQ (অনুরুপ কোণ) ------ (2)
(1) ও (2) নং সমীকরণ তুলনা করে পাই --- ∠CQF = ∠FQC
ஃ △FQC একটি সমদ্বিবাহু ত্রিভুজ এবং FQ = FC
PQ উপাক্ষীয় রশ্মি বলে Q এবং O বিন্দু খুব কাছাকাছি থাকবে এবং সেক্ষেত্রে FQ = OF ধরা যায়।
ஃ `OF = FC` অর্থাৎ `OF = frac{1}{2} OC` বা, `f = frac{r}{2}` বা `r = 2f`
✪ অবতল ও উত্তল দর্পণের ব্যবহার লেখো।
➤ অবতল দর্পণের ব্যবহার:
i) দন্ত চিকিৎসকদের কাজে ব্যবহৃত হয়
ii) দাড়ি কামানোর দর্পণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়
iii) মোটর গাড়ির হেডলাইটে প্রতিফলক হিসেবে ব্যবহার করা হয়
≻ উত্তল দর্পণের ব্যবহার:
i) মোটর গাড়ির ভিউফাইন্ডারে ব্যবহৃত হয়
ii) রাস্তার স্ট্রীট ল্যাম্পে আলোর প্রতিফলক রূপে ব্যবহৃত হয়
✪ তোমাকে একটি দর্পণ দেওয়া হল। স্পর্শ না করে দর্পণটি শনাক্ত করবে কিভাবে?
➤ একটি পেন্সিল বা হাতের আঙ্গুল দর্পণের খুব কাছে রাখলে ---
i) যদি বস্তুর সমান আকারের, সমশীর্ অসদ্ প্রতিবিম্ব দেখা যায় তবে বুঝতে হবে দর্পণ সমতল।
ii) যদি বস্তুর চেয়ে বড়, আকারের সমশীর্ষ ও অসদ্ প্রতিবিম্ব দেখা যায় তবে বুঝতে হবে দর্পণটি অবতল।
iii) যদি বস্তুর চেয়ে ছোট, সমশীর্ষ ও অসদ্ প্রতিবিম্ব দেখা যায় তবে বুঝতে হবে দর্পণ উত্তল।
✪ আলোর বিচ্ছুরণ কাকে বলে? স্নেলের সূত্রের সাহায্যে আলোর বিচ্ছুরণের ব্যাখ্যা দাও।
➤ আলোর বিচ্ছুরণ (Dispersion of light): সাদা আলো বা অন্য কোনো বহুবর্ণী আলো প্রিজম বা প্রিজমের মত কোনো প্রতিসারক মাধ্যমে প্রতিসৃত হলে তার উপাদান বর্ণগুলিত বিশ্লিষ্ট হয়। এই ঘটনাকে আলোর বিচ্ছুরণ বলে।
◼ স্নেলের সূত্র অনুযায়ী কোনো মাধ্যমের প্রতিসরাঙ্ক,
`mu = frac {sin i} {sin r} `
যেখানে, `i` = আপতন কোণ ও `r` = প্রতিসরণ কোণ।
এখন, নির্দিষ্ট আপতন কোণের জন্য,
`mu prop frac {1} {sin r} ` ------ (1)
আবার, উল্লিখিত মাধ্যমে আলোর বেগ `v` হলে,
`mu prop frac{1}{v} ` ------ (2)
(1) ও (2) নং সমীকরণ থেকে বলা যায়,
`sin r prop v`
অর্থাৎ প্রতিসরণ কোণ আলোকরশ্মির বেগের সমানুপাতিক ।
আমরা জানি শূন্য মাধ্যম বা বায়ু মাধ্যম ছাড়া অন্য কোনো আলোকীয় মাধ্যমে বিভিন্ন বর্ণের আলোর বেগ বিভিন্ন। তাই বিভিন্ন বর্ণের আলোকরশ্মির প্রতিসরণ কোণ বিভিন্ন হয় এবং সেগুলি পরস্পর থেকে পৃথক হয়ে পড়ে । তাই সাদা আলো বা বহুবর্ণী আলোর বিচ্ছুরণ হয়।
✪ একবর্ণী ও বহুবর্ণী আলো বলতে কী বোঝায়? বিচ্ছুরক মাধ্যম কী?
➤ একবর্ণী আলোকরশ্মিঃ যে আলোকরশ্মি কেবলমাত্র একটি বর্ণ দ্বারা গঠিত তাকে একবর্ণী আলোকরশ্মি বলে।
● বহুবর্ণী আলোকরশ্মিঃ যে আলোকরশ্মি একাধিক বর্ণের আলোর সমন্বয়ে গঠিত তাকে বহুবর্ণী আলোক রশ্মি বলে।
◼ বিচ্ছুরক মাধ্যমঃ যে মাধ্যমে বহুবর্ণী আলোক রশ্মির বিচ্ছুরণ ঘটে তাকে বিচ্ছুরক মাধ্যম বলে।
◼ বিচ্ছুরক মাধ্যমঃ যে মাধ্যমে বহুবর্ণী আলোক রশ্মির বিচ্ছুরণ ঘটে তাকে বিচ্ছুরক মাধ্যম বলে।
✪ কাচের স্লাবে সাদা আলোর বিচ্ছুরণ ঘটে না কেন ?
➤ যে কোনো প্রতিসারক মাধ্যমেই সাদা আলোর বিচ্ছুরণ ঘটে। যদি সাদা আলোকরশ্মি কাচের স্ল্যাবের একটি তলে তীর্যকভাবে এসে পড়লে ওই তলে বিভিন্ন বিভিন্ন বর্ণের রশ্মির যে পরিমাণ চ্যুতি হয় স্ল্যাবের বিপরীত তল থেকে নির্গত হওয়ার সময় রশ্মিগুলির সমান ও বিপরীত চ্যুতি হয়। এর ফলে বিভিন্ন বর্ণের আলোকরশ্মিগুলি পুনরায় মিশে সাদা আলো গঠন করে। তাই কাচের স্ল্যাব ব্যবহার করে সাদা আলোর বিচ্ছুরণ করা যায় না।
✪ বিভিন্ন বস্তুর বর্ণ বিভিন্ন দেখায় কেন ?
➤ কোনো বস্তুর উপর আলো পড়লে আপতিত আলোর কিছু বর্ণ বস্তুটি দ্বারা শোষিত হয় কিছু বর্ণ প্রতিফলিত হয় এবং কিছু বর্ণ প্রতিসৃত হয়। বস্তুর দ্বারা প্রতিফলিত বা প্রতিসৃত আলো আমাদের চোখে এসে পৌছলে আমরা সেই বস্তুকে দেখতে পাই ।
✪ কোনো বস্তুর বর্ণ নির্ভর করবে ---
❶ কোনো বস্তু থেকে যে বর্ণের আলো আমাদের চোখে এসে পৌঁছায় তার ওপর।
❷ কোনো বস্তু থেকে সব বর্ণের আলো আমাদের চোখ এসে পৌঁছলে আমরা বস্তুটিকে সাদা দেখব।
❸ কোনো বস্তু থেকে কোনো আলোকরশ্মি আমাদের চোখে এসে না পৌঁছলে আমরা বস্তুটিকে কাল দেখব।
✪ সূর্যের আলোয় সবুজ পাতা সবুজ দেখায় কেন ?
➤ সবুজ পাতার উপর সূর্যের সাদা আলো পড়লে পাতা কেবলমাত্র সবুজ আলো প্রতিফলিত করে এবং অন্য সব বর্ণের আলোকে শোষণ করে নেয়। ফলে আমাদের চোখে শুধু সবুজ আলো পৌঁছায় তাই সূর্যের আলোয় সবুজ পাতা সবুজ দেখায়।
✪ লাল আলোতে সবুজ পাতা কেমন দেখাবে ?
➤ সবুজ পাতার উপর লাল আলো পড়লে পাতা তা শোষণ করে নেবে এবং কোনো আলো প্রতিফলন করবে না। ফলে পাতাটিকে কালো দেখাবে।
✪ আলোর বিক্ষেপণ কাকে বলে ?
➤ আলোর বিক্ষেপণঃ সূর্যের আলো যখন বায়ুমন্ডলের মধ্যে দিয়ে যায় তখন বায়ুমণ্ডলের বায়ুকণা এবং সূক্ষ্ম ধূলিকণা ওই আলো শোষণ করে এবং শোষিত আলোকে চারিদিকে ছড়িয়ে দেয় এই ঘটনাকে আলোর বিক্ষেপণ বলে।
✪ চাঁদের আকাশকে কালো দেখায় কেন ?
➤ চাঁদের কোনো বায়ুমণ্ডল নেই তাই সূর্যের আলোর কোনো বিক্ষেপণ হয় না। তাই চাঁদের আকাশকে কালো দেখায়।
✪ বায়ু সাপেক্ষে কোনো মাধ্যমের প্রতিসরাঙ্ক 1 অপেক্ষা বেশি হয় কেন ?
➤ বায়ু সাপেক্ষে কোনো মাধ্যমের প্রতিসরাঙ্ক,
যেহেতু বায়ুতে আলোর বেগ অন্য যে কোনো মাধ্যমে আলোর বেগের তুলনায় বেশি, তাই বায়ু সাপেক্ষে কোনো মাধ্যমের প্রতিসরাঙ্ক 1 অপেক্ষা বেশি হয়।
✪ কোনো মাধ্যমের পরম প্রতিসরাঙ্ক 1 অপেক্ষা কম হয় না কেন ?
➤ কোনো মাধ্যমের পরম প্রতিসরাঙ্ক,
যেহেতু আলোর বেগ অন্য যে কোনো মাধ্যমে আলোর বেগের তুলনায় বেশি, তাই কোনো মাধ্যমের পরম প্রতিসরাঙ্ক 1 অপেক্ষা কম হয় না।
✪ দিনের বেলায় আকাশকে নীল দেখায় কেন ?
⇒ দিনের বেলায় যখন সূর্য রশ্মি বায়ুমন্ডলের ভিতর দিয়ে আসে তখন বায়ুমণ্ডলের সূক্ষ্ম ধূলিকণা ও
বিভিন্ন গ্যাস অণু দ্বারা সূর্যের আলোর বিক্ষেপণ হয় । বিজ্ঞানী র্যালের সূত্রানুযায়ী বিক্ষিপ্ত আলোর তীব্রতা আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চতুর্থ ঘাতের ব্যস্তানুপাতিক। এখন সূর্যের সাদা আলোর সাতটি বর্ণের মধ্যে নীল ও বেগুনি বর্ণের আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম। তাই সাদা আলো বিক্ষিপ্ত হওয়ার পর তার
মধ্যে উপস্থিত বেগুনি ও নীল বর্ণের আলোর তীব্রতা সবচেয়ে বেশি হয়। আমাদের চোখ বেগুনি বর্ণ অপেক্ষা নীল বর্ণের প্রতি বেশি সংবেদনশীল হাওয়ায় আমরা আকাশকে নীল দেখি।
✪ কাচের স্লাবে সাদা আলোর বিচ্ছুরণ ঘটে না কেন ?
➤ যে কোনো প্রতিসারক মাধ্যমেই সাদা আলোর বিচ্ছুরণ ঘটে। যদি সাদা আলোকরশ্মি কাচের স্ল্যাবের একটি তলে তীর্যকভাবে এসে পড়লে ওই তলে বিভিন্ন বিভিন্ন বর্ণের রশ্মির যে পরিমাণ চ্যুতি হয় স্ল্যাবের বিপরীত তল থেকে নির্গত হওয়ার সময় রশ্মিগুলির সমান ও বিপরীত চ্যুতি হয়। এর ফলে বিভিন্ন বর্ণের আলোকরশ্মিগুলি পুনরায় মিশে সাদা আলো গঠন করে। তাই কাচের স্ল্যাব ব্যবহার করে সাদা আলোর বিচ্ছুরণ করা যায় না।
✪ বিভিন্ন বস্তুর বর্ণ বিভিন্ন দেখায় কেন ?
➤ কোনো বস্তুর উপর আলো পড়লে আপতিত আলোর কিছু বর্ণ বস্তুটি দ্বারা শোষিত হয় কিছু বর্ণ প্রতিফলিত হয় এবং কিছু বর্ণ প্রতিসৃত হয়। বস্তুর দ্বারা প্রতিফলিত বা প্রতিসৃত আলো আমাদের চোখে এসে পৌছলে আমরা সেই বস্তুকে দেখতে পাই ।
✪ কোনো বস্তুর বর্ণ নির্ভর করবে ---
❶ কোনো বস্তু থেকে যে বর্ণের আলো আমাদের চোখে এসে পৌঁছায় তার ওপর।
❷ কোনো বস্তু থেকে সব বর্ণের আলো আমাদের চোখ এসে পৌঁছলে আমরা বস্তুটিকে সাদা দেখব।
❸ কোনো বস্তু থেকে কোনো আলোকরশ্মি আমাদের চোখে এসে না পৌঁছলে আমরা বস্তুটিকে কাল দেখব।
✪ সূর্যের আলোয় সবুজ পাতা সবুজ দেখায় কেন ?
➤ সবুজ পাতার উপর সূর্যের সাদা আলো পড়লে পাতা কেবলমাত্র সবুজ আলো প্রতিফলিত করে এবং অন্য সব বর্ণের আলোকে শোষণ করে নেয়। ফলে আমাদের চোখে শুধু সবুজ আলো পৌঁছায় তাই সূর্যের আলোয় সবুজ পাতা সবুজ দেখায়।
✪ লাল আলোতে সবুজ পাতা কেমন দেখাবে ?
➤ সবুজ পাতার উপর লাল আলো পড়লে পাতা তা শোষণ করে নেবে এবং কোনো আলো প্রতিফলন করবে না। ফলে পাতাটিকে কালো দেখাবে।
✪ আলোর বিক্ষেপণ কাকে বলে ?
➤ আলোর বিক্ষেপণঃ সূর্যের আলো যখন বায়ুমন্ডলের মধ্যে দিয়ে যায় তখন বায়ুমণ্ডলের বায়ুকণা এবং সূক্ষ্ম ধূলিকণা ওই আলো শোষণ করে এবং শোষিত আলোকে চারিদিকে ছড়িয়ে দেয় এই ঘটনাকে আলোর বিক্ষেপণ বলে।
✪ চাঁদের আকাশকে কালো দেখায় কেন ?
➤ চাঁদের কোনো বায়ুমণ্ডল নেই তাই সূর্যের আলোর কোনো বিক্ষেপণ হয় না। তাই চাঁদের আকাশকে কালো দেখায়।
✪ বায়ু সাপেক্ষে কোনো মাধ্যমের প্রতিসরাঙ্ক 1 অপেক্ষা বেশি হয় কেন ?
➤ বায়ু সাপেক্ষে কোনো মাধ্যমের প্রতিসরাঙ্ক,
যেহেতু বায়ুতে আলোর বেগ অন্য যে কোনো মাধ্যমে আলোর বেগের তুলনায় বেশি, তাই বায়ু সাপেক্ষে কোনো মাধ্যমের প্রতিসরাঙ্ক 1 অপেক্ষা বেশি হয়।
✪ কোনো মাধ্যমের পরম প্রতিসরাঙ্ক 1 অপেক্ষা কম হয় না কেন ?
➤ কোনো মাধ্যমের পরম প্রতিসরাঙ্ক,
যেহেতু আলোর বেগ অন্য যে কোনো মাধ্যমে আলোর বেগের তুলনায় বেশি, তাই কোনো মাধ্যমের পরম প্রতিসরাঙ্ক 1 অপেক্ষা কম হয় না।
✪ দিনের বেলায় আকাশকে নীল দেখায় কেন ?
⇒ দিনের বেলায় যখন সূর্য রশ্মি বায়ুমন্ডলের ভিতর দিয়ে আসে তখন বায়ুমণ্ডলের সূক্ষ্ম ধূলিকণা ও
বিভিন্ন গ্যাস অণু দ্বারা সূর্যের আলোর বিক্ষেপণ হয় । বিজ্ঞানী র্যালের সূত্রানুযায়ী বিক্ষিপ্ত আলোর তীব্রতা আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের চতুর্থ ঘাতের ব্যস্তানুপাতিক। এখন সূর্যের সাদা আলোর সাতটি বর্ণের মধ্যে নীল ও বেগুনি বর্ণের আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য সবচেয়ে কম। তাই সাদা আলো বিক্ষিপ্ত হওয়ার পর তার
মধ্যে উপস্থিত বেগুনি ও নীল বর্ণের আলোর তীব্রতা সবচেয়ে বেশি হয়। আমাদের চোখ বেগুনি বর্ণ অপেক্ষা নীল বর্ণের প্রতি বেশি সংবেদনশীল হাওয়ায় আমরা আকাশকে নীল দেখি।




.png)
.png)