দশম শ্রেণী ভৌত বিজ্ঞান পরিবেশের জন্য ভাবনা নোটস।
WBBSE Class 10 Physical Science Concern About Our Environment Notes.
"আজ আমরা WBBSE দশম শ্রেণীর ভৌত বিজ্ঞানের প্রথম অধ্যায় পরিবেশের জন্য ভাবনা সম্পর্কে আলোচনা করব। আশা করি মাধ্যমিকের সকল ছাত্র ছাত্রীদের খুবই কাজে আসবে।"
দশম শ্রেণী ভৌত বিজ্ঞান পরিবেশের জন্য ভাবনা নোটস
➦ বায়ুমণ্ডলের উপাদানঃ বায়ুমণ্ডল যে যে উপাদান দ্বারা গঠিত হয় তা হল-
1.গ্যাসীয় উপাদানঃ বায়ুর গ্যাসীয় উপাদান গুলির মধ্যে রয়েছে N2 (78.09%), O2 (20.95%), CO2 (0.03%), Ar (0.93%) । এছাড়াও বায়ুতে খুব সামান্য পরিমাণে পাওয়া যায় হিলিয়াম,নিয়ন, মিথেন, জেনন, হাইড্রোজেন ইত্যাদি গ্যাস। 2.জলীয়বাষ্প এবং 3. ধূলিকণা
➦ বায়ুমণ্ডলের গঠন (Structure of atmosphere): বায়ুস্তর গুলির বিন্যাস দুইভাবে করা যেতে পারে – 1) রাসায়নিক গঠন অনুসারে এবং 2) উষ্ণতার তারতম্য অনুসারে
1) রাসায়নিক গঠন অনুসারে: রাসায়নিক গঠন অনুসারে বায়ুমণ্ডল কে দুইটি ভাগে ভাগ করা যায় যথা -- a) হোমোস্ফিয়ার বা সমমন্ডল এবং b) হেটেরোস্ফিয়ার বা বিষমমন্ডল
a) হোমোস্ফিয়ার বা সমমন্ডলঃ ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় 90 km উচ্চতা পর্যন্ত বায়ুমন্ডলের বিভিন্ন গ্যাসের উপাদান গুলির অনুপাত অপরিবর্তিত থাকে অর্থাৎ রাসায়নিক গঠন একই থাকে বলে স্তরকে হোমোস্ফিয়ার বলা হয়।
b) হেটেরোস্ফিয়ার বা বিষমমন্ডলঃ হোমোস্ফিয়াররের উপর থেকে অর্থাৎ 90 km থেকে 10000 km উচ্চতা পর্যন্ত বায়ুমণ্ডলের যে সব রাসায়নিক উপাদান নিয়ে গঠিত তাদের অনুপাত একই রকম থাকে না বলে এই স্তরকে হেটেরোস্ফিয়ার বলা হয়।
2) উষ্ণতার তারতম্য অনুসারে : উষ্ণতার তারতম্য অনুসারে বায়ুমণ্ডলকে মোটামুটি ছয়টি স্তরে ভাগ করা হয় যেমন - 1) ট্রপোস্ফিয়ার (Troposphere) 2) স্ট্রাটোস্ফিয়ার (Stratosphere) 3) মেসোস্ফিয়ার (Mesosphere) 4) থার্মোস্ফিয়ার (Thermosphere) 5) এক্সোস্ফিয়ার (Exosphere) 6) ম্যাগনেটোস্ফিয়ার (Magnetosphere)
1) ট্রপোস্ফিয়ার বা ঘনমন্ডল: ভূপৃষ্ঠ থেকে 16 থেকে 18 km পর্যন্ত বিস্তত সবচেয়ে ভারী ও ঘন বায়ুস্তর থাকে ট্রপোস্ফিয়ার বলে। এই স্তরেই আমরা বাস করি।
⇒ বৈশিষ্ট্য : 1) উষ্ণতা: 15°C থেকে (-) 55°C। 2) উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে এই স্তরের চাপ ও উষ্ণতা উভয়ই কমে। 3) প্রতি 1 কিমি উচ্চতা বৃদ্ধিতে তাপমাত্রা প্রায় 6.5°C হ্রাস পায় । 4) এই স্তরে ঝড়, বজ্রপাত, বৃষ্টি সংঘটিত হয় বলে এই অঞ্চলকে ক্ষুব্ধ মন্ডল বা পরিবর্তনশীল স্তর বলে। 5) ওজন হিসেবে বায়ুমণ্ডলের প্রায় 75 % বায়ু এই স্তরে থাকে। 6) এই স্তরে ধূলিকণা থাকায় আকাশ নীল দেখায় ।7) এই স্তরের ওপরের সীমাস্থ অঞ্চলকে ট্রপোপজ (Tropopause) বলে। 8) ট্রপোপজে উষ্ণতা মোটামুটি (-) 55°C। 9) ট্রপোপজের উচ্চতা পৃথিবীর বিষুবরেখায় 15-16 km এবং উত্তর ও দক্ষিণ মেরুতে 5 - 6 km। এই অঞ্চলের উচ্চতা গ্রীষ্মকালে বাড়ে এবং শীতকালে কমে ।
2) স্ট্রাটোস্ফিয়ারঃ ট্রপোপজ এর ওপর থেকে প্রায় 50 km উচ্চতা পর্যন্ত অর্থাৎ 18 km থেকে 50 km পর্যন্ত বিস্তৃত যে বায়ুর স্তর আছে যেখানে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে উষ্ণতা ক্রমশ বাড়তে থাকে তাকে স্ট্রাটোস্ফিয়ার বলে ।
⇒ বৈশিষ্ট্য : 1) উষ্ণতা: (-) 55°C থেকে 0°C। 2) এই স্তরে ধূলিকণা ও জলীয়বাষ্প থাকে না, কুয়াশা ও মেঘ সৃষ্টি হয় না, ঝড় বৃষ্টি হয় না, তাই এই স্তর কে শান্তমন্ডল বলে। 3) এই কারণে এই স্তরে জেট বিমান গুলি সহজে চলাচল করে। 4)স্ট্রাটোস্ফিয়ার এর উর্ধ্বসীমাকে স্ট্রেটোপজ (Stratopause) বলে। এখানে বায়ুর উষ্ণতা 0°C বা 32°F। 5) এই স্তরে বায়ুর চাপ সমুদ্র পৃষ্ঠের বায়ুর চাপের 1/1000 অংশ হয় ।
| Concern-About-Our-Environment-Notes |
⇒ বৈশিষ্ট্য : 1) উষ্ণতা : 0°C থেকে (-) 93°C। 2) এই স্তরে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে উষ্ণতা ও চাপ উভয়ই কমে এবং এবং উষ্ণতার সর্বনিম্ন মান হয় (-) 93°C। এটি বায়ুমন্ডলের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা । 3) মহাকাশ থেকে আগত ছোট ছোট উল্কাপিণ্ড এখানেই পুড়ে ছাই হয়ে যায়। 4) মেসোস্ফিয়ার এর ঊর্ধ্বসীমাকে মেসোপজ (Mesopause) বলে।
4) থার্মোস্ফিয়ার বা আয়নোস্ফিয়ারঃ বায়ুমণ্ডলের মেসোপজ এর উপর থেকে প্রায় 500 km উচ্চতা পর্যন্ত বিস্তৃত যে বায়ুর স্তর আছে যেখানে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে উষ্ণতা দ্রুত হারে বাড়তে থাকে তাকে থার্মোস্ফিয়ার বলা হয়।
| মেরুপ্রভা বা মেরুজ্যোতি |
⇒ বৈশিষ্ট্য : 1) উষ্ণতা 1200°C থেকে 1600°C । 2) কৃত্রিম উপগ্রহ , মহাকাশ স্টেশন এই স্তরে অবস্থিত । 3) থার্মোস্ফিয়ার ও এক্সোস্ফিয়ারের সংযোগকারী স্তর হল থার্মোপজ (Thermopause)।
➦ উচ্চতা ভেদে উষ্ণতা ও চাপের তারতম্যঃ ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় 50 কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত প্রতি কিলোমিটার উচ্চতা বাড়ার সাথে সাথে উষ্ণতা প্রায় 6.5°C কমে। ভূপৃষ্ঠের কোনো স্থানের কোনো বিন্দুর চারিদিকে একক ক্ষেত্রফলের উপর বায়ু লম্বভাবে যে বল প্রয়োগ করে তাকে ওই বিন্দুতে বায়ুমন্ডলের চাপ বলে। বায়ুমণ্ডলের চাপ মাপা হয় ব্যারোমিটার যন্ত্রের সাহায্যে। ভূপৃষ্ঠ থেকে যত ওপরে ওঠা যায় বায়ুর চাপ তত কমতে থাকে। ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রতি 1 km উচ্চতা উপরে উঠলে বাতাসের চাপ প্রায় 8.5 সেমি কমতে থাকে।
➦ ওজোন স্তর সৃষ্টি ও ধ্বংসের কারনঃ বায়ুমণ্ডলের স্ট্রাটোস্ফিয়ারের ওপরের অংশে 25 থেকে 50 km এর মধ্যে ওজোন স্তর থাকে। বায়ুমণ্ডলের প্রায় 90 % ওজোন গ্যাস এই স্তরে জমা থাকে।
● ওজোন স্তর সৃষ্টির প্রক্রিয়া: সূর্য থেকে বিকিরিত অতিবেগুনি রশ্মি বায়ুমন্ডলে স্ট্রাটোস্ফিয়ারে উপস্থিত অক্সিজেন অনু কে ভেঙে অক্সিজেন পরমানুতে পরিণত করে।
`O_2` + UV ray → `O` + `O`
এইভাবে ভাবে উৎপন্ন অক্সিজেন পরমাণু একটি অক্সিজেন অনুর সঙ্গে যুক্ত হয়ে ওজোন অনু উৎপন্ন করে।
` O` + `O_2` → `O_3`
● ওজন গহ্বর সৃষ্টি: ব্রিটিশ বিজ্ঞানী জো ফোরম্যান (1982 সালে) সর্ব প্রথম লক্ষ্য করেন আন্টার্টিকা অঞ্চলের উপরিভাগে স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারের অন্তর্গত ওজোন স্তরটি ক্রমশ পাতলা হয়ে যাচ্ছে এই ঘটনাকে ওজোন স্তরের ক্ষয় বা ওজন ছিদ্র বা ওজন গহ্বর সৃষ্টি বলা হয়।
● ওজন স্তরের ধ্বংসঃ
1) CFC যৌগসমূহের ভূমিকা: সূর্য থেকে আগত অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে CFC বিয়োজিত হয়ে সক্রিয় ক্লোরিন পরমাণুতে পরিণত হয়।
`CFCl_3` → `CFCl_2` + `Cl`
এই সক্রিয় ক্লোরিন পরমাণু O3 গ্যাসের
সাথে বিক্রিয়া করে O2 এবং ক্লোরিন মনোক্সাইড (ClO) উৎপন্ন করে।
`Cl + O_3` → `ClO` + `O_2`
উৎপন্ন ক্লোরিন মনোক্সাইড (ClO) আবার O3 -এর
সঙ্গে বিক্রিয়া করে O2 অণু ও সক্রিয় ক্লোরিন পরমাণু উৎপন্ন করে। উৎপন্ন
সক্রিয় ক্লোরিন পরমাণু আবার O3-এর সঙ্গে বিক্রিয়া করে।
`ClO + O_3` → `Cl` + `2 O_2`
এভাবে ওজোন স্তর ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। একটি সক্রিয় ক্লোরিন পরমাণু লক্ষাধিক ওজোন অণুর বিয়োজন ঘাটাতে পারে।
2) নাইট্রোজেনের অক্সাইড সমূহের ভূমিকা: জেট বিমানগুলি প্রচুর পরিমাণে নাইট্রিক অক্সাইড (NO) গ্যাস নির্গত হয়। নাইট্রিক অক্সাইড (NO)-এর সঙ্গে `O_3` বিক্রিয়ায় নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড (`NO_2`) ও অক্সিজেন (`O_2`) উৎপন্ন করে। `NO` + `O_3` ⟶ `NO_2` + `O_2`
উৎপন্ন নাইট্রোজেন ডাই অক্সাইড (`NO_2`) ওজোনের বিয়োজনে উৎপন্ন অক্সিজেন পরমাণুর (O) সঙ্গে বিক্রিয়া করে পুনরায় NO উৎপন্ন হয়। `NO_2` + `O` ⟶ `NO` + `O_2`
এইভাবে NO-এর পরিমাণ কমে না, কিন্তু ওজোন অণুর বিয়োজন ঘটতে থাকে।
➦ ওজোন স্তর ধ্বংসের ক্ষতিকর প্রভাব:
❶ মানুষের উপর প্রভাব: 1) চামড়ার ক্যান্সার হতে পারে। 2) অতিবেগুনি রশ্মি মানবদেহের DNA -এর মিউটেশন ঘটাতে পারে 3) ত্বক তামাটে বর্ণ ধারণ করে বা পুড়ে যায় 4) প্রজনন ক্ষমতা ও অনাক্রম্যতা বা ইমিউনিটি হ্রাস পায় 5) চোখে ছানি পড়ে ও দৃষ্টিশক্তি কমে যায়।
❷ উদ্ভিদের উপর প্রভাব: 1) সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়া ব্যাহত হবে ফলে শস্যের উৎপাদন কমে যাবে 2) পাতা বিবর্ণ হয়ে যাবে 3) বীজের অঙ্কুরোদগম প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হবে।
❸ বারিমন্ডলের ওপর প্রভাব: সামুদ্রিক প্লাংকটন এর এবং প্লাংকটন ভোজী প্রাণীদের বিনাশ ঘটতে পারে।
❹ জলবায়ুর উপর প্রভাবঃ 1) UV রশ্মি সরাসরি ভূপৃষ্ঠে আপতিত হলে ভূপৃষ্ঠের উষ্ণতা বৃদ্ধি পাবে এবং মেরু অঞ্চলে বরফ গলার ফলে সমুদ্রের জলের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে। 2) জলাশয় এর জল দ্রুত বাষ্পীভূত হয়ে যাবে এবং জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটবে। 3) অ্যাসিড বৃষ্টির পরিমাণ বাড়বে।
গ্রিনহাউস প্রভাব ও বিশ্ব উষ্ণায়ন
গ্রিন হাউস হল কাচের দেওয়াল ও ছাদযুক্ত এক বিশেষ ধরনের ঘর যার ভেতরে শীতপ্রধান দেশে কম উষ্ণতায় সবজি ও ফল চাষ করা হয়। দিনের বেলা সূর্য থেকে আগত ক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্যের আলোক তরঙ্গ খুব সহজেই কাচ ভেদ করে ওই ঘরে প্রবেশ করে এবং সবজি ও গাছের চারা প্রতিফলিত হয়। ঐ দীর্ঘ তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট প্রতিফলিত রশ্মি পুনরায় কাচ ভেদ করে বাইরে বেরিয়ে আসতে পারে না ফলে ঘরের অভ্যন্তরে সর্বদা উষ্ণ থাকে।
➦ গ্রিনহাউস এফেক্ট: পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে উপস্থিত কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2), জলীয়বাষ্প (H2O), মিথেন (CH4), CFC প্রভৃতি গ্যাস গ্রিন হাউজ এর কাজের মতো কাজ করে। এই গ্যাস গুলি সূর্য থেকে আগত ক্ষুদ্র তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট রশ্মিকে পৃথিবীপৃষ্ঠে আপতিত হতে দেয় কিন্তু উত্তপ্ত ভূপৃষ্ঠ দ্বারা বিকিরিত দীর্ঘ তরঙ্গ দৈর্ঘ্য বিশিষ্ট অবলোহিত রশ্মিকে মহাশূন্যে ফিরে যেতে বাধা দেয় । ফলে বায়ুমণ্ডল উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এই ঘটনাকে গ্রীন হাউস এফেক্ট বলা হয় এবং ওই গ্যাস গুলি কে গ্রীন হাউজ গ্যাস বলা হয়।
● গ্রিনহাউস গ্যাস সমূহঃ কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2), মিথেন (CH4), CFC, ওজোন (O3) ,নাইট্রাস অক্সাইড (N2O), জলীয় বাষ্প (H2O) ইত্যাদি।
বায়ুমন্ডলে থাকা অক্সিজেন (O2) এবং নাইট্রোজেন (N2) গ্রিনহাউস গ্যাস নয়।
● জৈব গ্রিনহাউস গ্যাসঃ মিথেন (CH4)
গ্রিনহাউস এফেক্ট সৃষ্টিতে কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2), মিথেন (CH4), ক্লোরোফ্লওরোকার্বন (CFC), ওজোন (O3), নাইট্রাস অক্সাইড (NO2), ও জলীয় বাষ্প (H2O) এর অবদান যথাক্রমে 50 %, 19 %, 16 %, 8 %, 5 % ও 2 % ।
কার্বন ডাই অক্সাইড (CO2 ) এর তুলনায় মিথেন (CH4 ) , নাইট্রাস অক্সাইড (NO2) এবং CFC এর গ্রিনহাউস এফেক্ট যথাক্রমে 25,250 ও 20,000 গুণ বেশি।
| Concern-About-Our-Environment-Notes |
➦ বিশ্ব উষ্ণায়ন: বায়ুমন্ডলে গ্রিনহাউস প্রভাব সৃষ্টিকারী গ্যাস গুলির পরিমাণ ক্রমশ বৃদ্ধির ফলে গ্রীন হাউজ প্রভাব বেড়ে গিয়ে বায়ুমণ্ডলের ক্রমাগত উষ্ণতা বৃদ্ধির ঘটনাকে গ্লোবাল ওয়ার্মিং (Global Warming) বা বিশ্ব উষ্ণায়ন বলে।
বিশ্ব উষ্ণায়নের ফলে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা প্রতিবছর প্রায় 0.05°C করে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
➦ বিশ্ব উষ্ণায়নের সম্ভাব্য প্রভাব: 1) সমুদ্র জলের পরিবর্তনঃ মেরু অঞ্চলের প্রচুর বরফ গলবে এর ফলে সমুদ্রের জলের উচ্চতা বাড়বে এবং সমুদ্র স্থলভূমি সমুদ্রগর্ভে চলে যাবে।
2) আবহাওয়ার পরিবর্তনঃ প্রবল বন্যা,খরা, ঝড়ঝঞ্ঝা ইত্যাদি হবে।
3) জনস্বাস্থ্যঃ আবহাওয়া পরিবর্তন জনস্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলবে। পৃথিবী উষ্ণ হওয়ায় বিভিন্ন প্রকার মশক বাহিত রোগের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।
4) উচ্চ উষ্ণতা সহ্য না করতে পেরে বহু পতঙ্গ ও পাখি চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যাবে ফলে ইকোসিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
5) এই শতাব্দীর মাঝামাঝি পৃথিবীর উষ্ণতা 2-4°C এর মত বৃদ্ধি পাবে এবং চরম প্রাকৃতিক বিপর্যয় ডেকে আনবে ।
➦ গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাস কার্যকরী উপায়ঃ 1) জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ধীরে ধীরে কমিয়ে বিকল্প শক্তি ও পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে।
2) জীবাশ্ম জ্বালানি দ্বারা চালিত যানবাহনের ব্যবহার কমাতে হবে তার পরিবর্তে সৌর বিদ্যুৎ চালিত গাড়ির ব্যবহার বাড়াতে হবে হবে।
3) বনভূমি ধ্বংস না করে আরো নতুন বনভূমি সৃষ্টির জন্য পরিকল্পনা নিতে হবে।
4) CFC গ্যাসের উৎপাদন এবং ব্যবহার বন্ধ করতে হবে।
5) বিভিন্ন জৈব বর্জ্য পদার্থ কে জৈব সার এ রূপান্তরিত করে সেগুলো ব্যবহার করতে হবে।
6) জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং মানুষকে বিশ্ব উষ্ণায়ন এর কুফল সম্বন্ধে সচেতন করতে হবে।
➦ গ্রিনহাউস প্রভাবের উপযোগিতাঃ গ্রিনহাউস গ্যাস গুলি না থাকলে সূর্য থেকে পৃথিবীতে আসা তাপের সম্পূর্ণ অংশ আবার মহাশূন্য ফিরে যেত। এর ফলে পৃথিবী এমন শীতল হয়ে যেত যে তাতে কোন জীবের পক্ষে বেঁচে থাকা সম্ভব হতো না । গ্রীন হাউস এফেক্ট আছে বলেই পৃথিবীতে জীবের অস্তিত্ব বজায় আছে।
➦ শক্তির যথাযথ ব্যবহারঃ শক্তি উৎস কে আমরা মোটামুটি দুই ভাগে ভাগ করতে পারি -
➦ জীবাশ্ম জ্বালানিঃ উদ্ভিদ ও জীবজন্তুর দেহাবশেষ থেকে উৎপন্ন জ্বালানিকে জীবাশ্ম জ্বালানি বলে।
➦ জীবাশ্ম জ্বালানির উৎপত্তিঃ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে মাটির নিচে উদ্ভিদ ও প্রাণী চাপা পড়ে। এর পরে লক্ষ লক্ষ বছর ধরে সেগুলি ভূপৃষ্ঠের অভ্যন্তর এর চাপ, তাপ এবং ব্যাকটেরিয়া দ্বারা পচনের ফলে ক্রমাগত রাসায়নিকভাবে পরিবর্তন হয়ে জীবাশ্ম জ্বালানির পরিণত হয়।
➦ জ্বালানির তাপন মূল্য ঃকোনো জ্বালানির একক ভর বা আয়তনের গ্যাসীয় সম্পূর্ণ দহনে যে পরিমাণ তাপশক্তি উৎপন্ন হয় তাকে ঐ জ্বালানির তাপন মূল্য বা (Calorific Value) বলে।
এর একক ক্যালোরি/গ্রাম (cal/g) বা কিলোক্যালোরি/ঘনমিটার (kcal/m3) বা কিলোজুল/কেজি (kJ/kg)।
| আরও পড়ুন | |
| মাধ্যমিক ভৌতবিজ্ঞান সাজেশন | Click Here |
| [ছায়া] ভৌত বিজ্ঞান [দশম শ্রেণি] - গ্যাসের আচরণ - অনুশীলনীর সমাধান | Click Here |
| [সাঁতরা] ভৌত বিজ্ঞান [দশম শ্রেণি] - গ্যাসের আচরণ - অনুশীলনীর সমাধান | Click Here |
| [প্রান্তিক] ভৌত বিজ্ঞান [দশম শ্রেণি] - গ্যাসের আচরণ - অনুশীলনীর সমাধান | Click Here |
| দশম শ্রেণী ভৌত বিজ্ঞান রাসায়নিক গণনা QUIZ (part 1) | Click Here |

